admin
- ১১ জুলাই, ২০২৬ / ৬ Time View

শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আবু সাঈদ চেয়ারম্যানকে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
Reading Time: 3 minutes
।।আলহাজ্ব ডাঃ আব্দুস সালাম।।
পাবনায় আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং পরীক্ষিত একজন নেতার নাম অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। যার রাজনীতি শুরু হয় আওয়ামী লীগ বিরোধী দর্শনের মাধ্যমে। এখনো তিনি আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতির সাথেই যুক্ত আছেন। পাবনায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখার কারণে তার জীবনের উপর মৃত্যুর ঝুঁকি এসেছে বারবার। মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি আওয়ামী নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন সারাজীবন। এমন একজন নেতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ চেয়ারম্যানকে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ করে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক গোলাম সরোয়ার তুষার। যার কোন প্রমাণ তিনি তার বক্তব্যে উপস্থাপন করতে পারেননি, প্রমাণ কোনদিন দিতেও পারবেন না। কারণ তুষারের বক্তব্যের বিষয়ের সাথে শিমুল বিশ্বাসের আদৌ কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
শিমুল বিশ্বাসের জনপ্রিয়তা, পাবনার উন্নয়নে তার সাম্প্রতিককালের ভূমিকা, সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ড, অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে হিংসাকাতর হয়ে প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্রকারীরা তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন, সমাজে হেয় প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার অসৎ উদ্দেশ্যে এসব করছেন বলে পাবনার মানুষ মনে করছে। কারণ শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কটুক্তি মূলক বক্তব্য প্রদানকারী এনসিপি নেতা গোলাম সরোয়ার তুষারের বাড়ি পাবনা কিংবা তার ধারে কাছেও নয়। শিমুল বিশ্বাস জুলাই যোদ্ধা হত্যাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ চেয়ারম্যানকে শেল্টার দিচ্ছেন কি দিচ্ছেন না এ বিষয়ে গোলাম সরোয়ার তুষারের কিছু জানার কথা নয়। পাবনা থেকে কেউ না কেউ তাকে এই মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছে। যার কথামতো এনসিপি নেতা তুষার জনসভায় শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক এরা কারা, সহজ উত্তর শিমুল বিশ্বাসের উপর হিংসাকাতর যারা। কারো মনে হতে পারে পাবনার এনসিপি নেতারা এই কাজ করেছেন। কিন্তু পাবনার এনসিপিতে শিমুল বিশ্বাসের সমকক্ষ এমন কেউ নেই, যার শিমুল বিশ্বাসের ভাবমূর্তি নষ্ট করে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে তার সাথে যেহেতু শিমুল বিশ্বাসের আদৌ কোন সম্পর্ক নেই। তাই মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করে শিমুল বিশ্বাসের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কোন অভিপ্রায় পাবনার এনসিপি নেতাদের থাকার কথা নয়। এটা তাদের দ্বারাই হওয়া সম্ভব, যারা শিমুল বিশ্বাসকে প্রতিপক্ষ ভাবেন। যারা শিমুল বিশ্বাসের জনপ্রিয়তা সহ্য করতে পারেন না, কিভাবে শিমুল বিশ্বাসকে ঘায়েল করা যায়, কিভাবে জনসমাজে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায় সেই চিন্তা ভাবনায় মগ্ন থাকেন। আর এটাতে সফল হতে পারলে তাদের লাভ আছে।
পাবনায় শিমুল বিশ্বাসের কাছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা হেরে গেছেন তারা ভাবতেন পাবনা পাঁচ আসনে তাদের বিজয় নিশ্চিত, কিন্তু শিমুল বিশ্বাসের কাছে হেরে যাবার পর তারা হতভম্ব হয়ে যান। শিমুল বিশ্বাসের কাছে যারা নির্বাচনে হেরে গেছেন,তারাই নানা কৌশলে শিমুল বিশ্বাসের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছেন। নানা সময় নানা ভাবে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে,যা পাবনা বাসী ফেসবুকে দেখছেন। শুধু পাবনায় নয় সারাদেশেই জামায়াতের ফেসবুক বাহিনী বিএনপি দলসহ বিএনপির শক্তিশালী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দেশের প্রধান মন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যা দেশবাসী ফেসবুকে দেখছেন।
এনসিপি যেহেতু জামাতের একটি সহযোগী দল। জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই তাদের কাজ। তাই পাবনায় শিমুল বিশ্বাসের কাছে পরাজিত শক্তি নিজেরা কিছু না বলে এনসিপি নেতাদের দিয়ে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিজ আলম ও গোলাম সরোয়ার তুষার পাবনা এলে শিমুল বিশ্বাসের কাছে নির্বাচনে পরাজিত শক্তি তাদের কানভারী করেন। তাদের দেয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এনসিপি নেতারা জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এনসিপি নেতারা তাদের নিজেদের ইচ্ছায় শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন বলে মনে হয় না।
জামায়াত নেতাদের বোঝা উচিত এসব চালবাজীর রাজনীতি করে কোন লাভ হয় না,যার প্রমাণ তাদের কাছেই রয়েছে। পাবনায় কুরআন শরীফ পোড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, মিছিল মিটিং বিক্ষোভ করে পাবনায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে বেইজ্জত ভাবে আদালতে হাজির করা, জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ, জেলখানায় কয়েদিদের উস্কানি দিয়ে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা সহ এমন কোন কাজ নেই সে সময় জামায়াত নেতারা শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করেননি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার বহু চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি তার জীবননাশের চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে? না হয়নি বরং হয়েছে তার উল্টোটা। মহান আল্লাহর কৃপায় সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে শিমুল বিশ্বাস আজ জনগণের ভোটে পাবনা-৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের পরপর তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সরকারি ছিলেন। সেই সুবাদে শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি একজন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি, রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও পাবনা জেলা ট্রাক-ট্যান্কলরী-কাভার্ডভ্যান চালক ইউনিয়নের আজীবন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুদিন আগে তিনি জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
শিমুল বিশ্বাসকে মহান রাব্বুল আলামীন কোথায় নিয়ে গেছেন, যারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের রাজনীতি করেন করেন তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন- শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবন তাদের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে। সম্প্রতি শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে এতে শিমুল বিশ্বাসের কিছু হবে না। যারা অপপ্রচার ছড়িয়ে নিজেরা লাভবান হওয়ার চিন্তা করছেন তারাই একদিন আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন ইতিহাস এটাই বলে।
Post Views: 8